চট্টগ্রামে করোনায় আরো ৬ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ৪৭৩
নিজস্ব প্রতিবেদক : চট্টগ্রামে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঘটনা বেড়েই চলছে। করোনায় মৃতের মিছিলে বেশির ভাগই ষাটোর্ধ্ব বয়সী। এ পর্যন্ত মৃত চারশ জনের মধ্যে ২২২ জনের বয়সই ৬১ বছরের বেশি। এদিকে ২৪ ঘন্টায় চট্টগ্রামে ২ হাজার ৩৮৬টি নমুনা পরীক্ষা করে নতুন করে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৪৭৩ জন। এ নিয়ে মোট আক্রান্ত ৪৩ হাজার ১৮৮ জন। এসময়ে করোনায় ৬ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এইদিন কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজ ল্যাব ও চট্টগ্রামে ৮টি ল্যাবে নমুনা পরীক্ষা হয়। এর মধ্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবে ১৫৪টি নমুনা পরীক্ষা করে ৭৯ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেসে (বিআইটিআইডি) ৮৬০টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এতে শনাক্ত হয় ৮৮ জন। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) ল্যাবে ৫২৩টি নমুনা পরীক্ষা করে ২৩ জনের শরীরে করোনা ভাইরাস পাওয়া গেছে। চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় (সিভাসু) ল্যাবে ২৭৩টি নমুনা পরীক্ষা করে ১১৬ জনের শরীরের করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল ল্যাবে ২০২টি নমুনা পরীক্ষা করে ৭৬ জন, শেভরণ ক্লিনিক্যাল ল্যাবরেটরিতে ৩১৮টি নমুনা পরীক্ষা করে ৭০ জন এবং চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল ল্যাবে ৫৩টি নমুনা পরীক্ষা করে ২০ জন করোনা আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন। অন্যদিকে জেনারেল হাসপাতালের রিজিওনাল টিবি রেফারেল ল্যাবরেটরিতে (আরটিআরএল) একটি নমুনা পরীক্ষা করে ১ জনের করোনা পজেটিভ শনাক্ত হয়েছে। কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজ ল্যাবে চট্টগ্রামের ২টি নমুনা পরীক্ষা করে কারো শরীরে করোনা ভাইরাসের অস্তিত্ব মিলেনি।নতুন আক্রান্তদের মধ্যে নগরে ৩৯০ জন এবং উপজেলায় ৮৩ জন।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ে সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, এখন পর্যন্ত ৬১ বছরের বেশি বয়সী মারা যাওয়া ২২২ জনের মধ্যে ১৮২ জন পুরুষ এবং ৪০ নারী। বাকিদের মধ্যে ৫১ থেকে ৬০ বছর বয়সী ৯৫ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছর বয়সী ৫২ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছর বয়সী ১৮ জন, ২১ থেকে ৩০ বছর বয়সী ৫ জন, ১১ থেকে ২০ বছর বয়সী ৪ জন এবং ০ থেকে ১০ বছর বয়সী ৪ জন মারা গেছে। করোনায় মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে ২৯৪ জন নগরের ও ১০৬ জন বিভিন্ন উপজেলার বাসিন্দা। আর উপজেলায় সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হাটহাজারীতে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বিদ্যুৎ বড়ুয়া বলেন, বিভিন্ন কারণে এমনিতে ৬০ বছরের বেশি বয়সের লোকেরা শারীরিকভাবে কিছুটা দূর্বল থাকে। এই বয়সে অনেকে আবার জটিল রোগেও আক্রান্ত থাকেন। ফলে খুব সহজে তাদের করোনা কাবু করতে সক্ষম হয়। আর একবার করোনা আক্রান্ত হলে এই বয়সের লোকেরা করোনার সঙ্গে যুদ্ধ করে পেরে উঠে না। ফলে আক্রান্ত এই বয়সের বেশিরভাগই মত্যুমুখে পতিত হন। তবে অনেকে যথাযথ চিকিৎসা পেয়ে সেরেও উঠছেন । তিনি বলেন, সবাইকে কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। বিশেষ করে যাদের বাসায় বৃদ্ধ ও শিশু আছে তাদের বাড়তি সতর্ক থাকতে হবে।
